সর্দি-কাশি-মাথাব্যথার উপযুক্ত দাওয়াই, শীতে রান্নাঘরের এই মশলাই করবে কামাল, প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরেই গোলমরিচ পাওয়া যায়। মূলত মশলা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। এমনকী গোলমরিচকে ‘মশলার রাজা’ বলেও অভিহিত করা হয়। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে, গোলমরিচে একাধিক উপকারী উপাদান রয়েছে। ফলে তা সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট-সহ একাধিক সমস্যা দূর করতে পারে। এমনকী বলা হয় যে, রান্নাঘরে এই উপাদান মজুত থাকলে ছোটখাটো সমস্যায় আর ডাক্তারের কাছে ছুটতে হবে না। এমনটাই দাবি করছেন সিনিয়র আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা. রাসবিহারি তিওয়ারি।
ওই আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, বহু রোগ উপশমে গোলমরিচের জুড়ি মেলা ভার! এর এমন কিছু গুণ রয়েছে, যা জানলে অবাক হয়ে যাবেন। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডা. রাসবিহারি তিওয়ারি বলেন, গোলমরিচের একাধিক কার্যকরী উপাদান রয়েছে। আসলে এর মধ্যে থাকে পেপারিন। যা ঔষধি গুণে ভরপুর। এর পাশাপাশি গোলমরিচে রয়েছে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, ভিটামিন এ-র মতো নানা ধরনের নিউট্রিয়েন্টস।
গুড়ের সঙ্গে গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে গুলির মতো বানিয়ে খেলে কাশি দ্রুত সেরে যাবে। এর পাশাপাশি ফুসফুস এবং শ্বাসনালীতে যদি সংক্রমণ হয়, তাহলে গোলমরিচ এবং মিন্ট টি বা পুদিনা চা সেবন করতে হবে। এভাবেই গোলমরিচ বহু রোগের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। তাই রান্নাঘরে এই মশলা থাকলে তো কেল্লা ফতে! এমনকী গোলমরিচ ছোট-বড় যে কোনও অসুখের প্রয়োজনীয় দাওয়াই হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন যে, যদি কেউ সর্দি-কাশিতে ভোগেন, তাহলে গরম দুধে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে অবিলম্বে সেই সমস্যার উপশম হবে। আর যাঁরা হামেশাই সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন, তাঁদের ১৫ দিন একটা করে গোলমরিচ খাওয়া উচিত। এতে সেই সমস্যা একেবারেই কেটে যাবে। এখানেই শেষ নয়, ডা. তিওয়ারি আরও বলেন, গলা ব্যথা হলে কিংবা গলার আওয়াজ ঘড়ঘড় করলে তারও ঘরোয়া টোটকা রয়েছে। কীরকম? ঘি এবং মিছরির সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে গলার সমস্যা দূর হয়। আবার মাথা ব্যথা হলে গোলমরিচ পোড়ানোর ধোঁয়া প্রয়োগ করলে তা নিমেষে উধাও হয়ে যাবে। এছাড়া ক্রমাগত কাশি হলে কিশমিশের সঙ্গে চার-পাঁচটি গোলমরিচ খাওয়া উচিত।
Tags:
lifestyle

